পরিবহন দপ্তরের বড় পদক্ষেপ! টোটো চালকদের দাপাদাপি রুখতে নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে.....?

 যেখানে দেখি সেখানেই দেখা যায় টোটোর দাপাদাপি! এইজন্য বড় পদক্ষেপ নিতে চলছে ভারত সরকার।পথে ঘাটে যত্রতত্র বাড়ছে টোটোর দৌরাত্ম। নাজেহাল অবস্থা নিত্যযাত্রীদের। এমত অবস্থায় বারংবার অভিযোগ জানিও সুরাহা মেলেনি প্রশাসনের তরফে। তবে এবার উদ্যোগ গ্রহণ করল পরিবহন দপ্তর। যাত্রী সুরক্ষার কথা ভেবে, টোটোকে এবার নিয়মে বাধতে চলেছে। গ্রাম থেকে শহর সমস্ত জায়গায় স্বমহিমায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে টোটো।


দিন দিন বাড়ছে টোটোর সংখ্যা। কে বৈধ আর কে অবৈধ টোটো চালক তা বোঝার কোন‌ও উপায় নেই। বেকাররাও রয়েছেন, রোজগারের আশায় তারাও ইচ্ছেমত টোটো কিনে রাস্তায় চালাতে শুরু করে দিচ্ছেন। যার ফল ভুগতে হচ্ছে নৃত্য যাত্রীদের। রাস্তাঘাটে প্রায়শই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা দায় হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। এইসব টোটো দের জন্য এক্সিডেন্ট পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এর জন্য রাজ্য সরকার বারাসত, মধ্যমগ্রাম, বসিরহাট, বাদুড়িয়া, জয়নগর, বারুইপুর, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, ডোমকল, জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ, দুই বর্ধমান সহ রাজ্যের সর্বত্র এখন দেদার টোটোর দৌরাত্ম। টোটোর এই অনিয়ন্ত্রণহীন চলাচলে এবার লাগাম পড়াতে চালু হল কড়া নিয়ম। এবার প্রতিটি বৈধ টোটোয় বিশেষ QR Code-এর ব্যবস্থা করা হল।

প্রতিটি টোটোয় এই বিশেষ QR Code সাঁটানো থাকবে, যা স্ক্যান করলে টোটোর রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর, কোন রুটে চলছে, চালকের সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে কোন‌ও টোটোর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর থাকলে যাত্রীরা সহজেই ওই QR Code স্ক্যান করে সবকিছু তথ্য পেয়ে যাবেন এবার হাতের মুঠোয়। যে টোটোয় QR Code থাকবে না, তার চালকের লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য  করা হবে। এবং জরিমানা দিতে হতে পারে।

শুধু তাই নয়, বাতিল করা হবে টোটোটির রুট পারমিটও। সংশ্লিষ্ট চালককে আর কোথাও টোটো চালাতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে পরিবহন দপ্তর। জঙ্গিপুরে আবার টোটো-কে নিয়ন্ত্রণের রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানকার টোটো চালকদের নম্বর প্লেট ব্যবহারের কথা জানিয়েছে পরিবহন দপ্তর। যে টোটোয় এই নম্বর প্লেট থাকবে না, সেই টোটো অবৈধ বলে গণ্য হবে। এই টোটোর জন্য যেমন সুবিধা আছে তেমনি আবার অসুবিধা আছে। এই টোটোর কারণে সমস্ত ভ্যান রিক্সা প্রায় উঠে যেতেই বসেছে এবং তাদের পেটের ভাত নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে কিছু মানুষ ভ্যান রিক্সা বেচে টোটো চালাতে যাচ্ছে আর যারা টোটো কিনে ফেলছে তারা আবার মাসের শেষে ইলেকট্রিক বিল দিতে গিয়ে মহা বপদে পড়তে ইচ্ছে । এদিকে কিছু বেকার যুবক কাজের অভাবে টোটো কিনে বসছে এবং রাস্তায় চলতে গিয়ে ট্রাফিক মানতে পারছে না এর ফলে রাস্তা জাম এবং এক্সিডেন্ট এর পরিমাণ বেড়ে উঠছে। একদিকে বলা যেতে পারে ব্যাটারি চালিত গাড়িতে পরিবেশ দূষণের মাত্রা প্রায় কমিয়ে দেয় বললেই চলে।বাড়ছে দুর্ঘটনা। যেখানে-সেখানে যাত্রী তুলছে টোটো, মানছে না ট্রাফিক নিয়ম। এমন অসংখ্য অভিযোগ প্রায় রোজই জমা পড়ছে পুলিশ-প্রশাসনের কাছে।

এদিকে ই-রিকশা বা টোটোর দাপাদাপিতে রাশ টানতে চাইছে প্রশাসন। টোটোর জন্য যানজট-সহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় নড়েচড়ে বসেছএ প্রশাসন। বেআইনি অটোর চলাচলে রাশ টানতে চাইছে প্রশাসন।

রাজ্য পরিবহণ দফতর টোটোর দাপাদাপি রুখতে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেবে। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ        দিলেন এবার।মূলত রাস্তায় বেআইনি টোটো চলাচলে রাশ টানতে চাইছে প্রশাসন। নতুন করে কেউ টোটো রাস্তায় নামাতে চাইলে তাকে পুরসভায় নাম নথিভুক্ত করতে হবে আগে।

পরিবেশবান্ধব যান টোটো। ফলে আলাদা করে রুট পারমিটের প্রয়োজন হয় না। তবে পরিবহণমন্ত্রী বলছেন, প্রচুর গ্যারাজ বা কারখানায় বেআইনিভাবে টোটো তৈরি হচ্ছে। সেগুলিই রাস্তায় বেআইনিভাবে নেমে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছে।

এই অশান্তির রুখতেই চালু করা হলো নতুন নিয়ম। আর এই নিয়ম যে মানবে না তার লাইসেন্স বাতিল তো হবেই উপরন্ত জরিমানা বা জেলও হতে পারে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন